1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় সম্মতি পুতিনের এবার আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হারল বাংলাদেশ সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার সচিবালয়ে ডিজিটাল হাজিরা, তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল আজ প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণাঞ্চল সফর ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের মরিয়া কূটনীতি, ফের ত্রিমুখী শান্তি আলোচনায় পুতিনের সম্মতি নরসিংদীতে ডাইং মিলের বয়লারে আগুন, দগ্ধ ৫ জন ঢাকা মেডিকেলে অনূর্ধ্ব ১৯ নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা ইউক্রেইন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি পুতিন

যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ৫৯ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের নাগরিক হেনরি নওয়াক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ দেশটির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অভিযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিট সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থায় বহিরাগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। নওয়াক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ইউরোপের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও উদার অভিবাসন নীতির কারণেই এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। পশ্চিমা সমাজে প্রবেশ করা অনেক অভিবাসী স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ডাউনিং স্ট্রিট। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, কিছু বিদেশি ব্যক্তিত্ব যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। শোকসন্তপ্ত নওয়াক পরিবার যেখানে সমাজে শান্তি ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে, সেখানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলের উসকানিমূলক মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ব্রিটিশ নাগরিক হেনরি নওয়াককে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে যুক্তরাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা নওয়াককে পুলিশ হাতকড়া পরাচ্ছে। এই ঘটনায় হামলাকারী ভিকরাম ডিগওয়া আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন এবং আদালত তাকে ন্যূনতম ২১ বছরের কারাদণ্ডসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের স্বাধীন পুলিশ আচরণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইওপিসি) খতিয়ে দেখছে।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে ঘটনাটিকে ‘পশ্চিমা সভ্যতার অবক্ষয়’ এবং ‘দুই-স্তরের পুলিশিং’ বা বৈষম্যমূলক বিচারব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেন যে, কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে নয়, বরং পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করতে হবে। পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।

এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটির নেতা এড ডেভি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পদ্ধতিগতভাবে ব্রিটিশ গণতন্ত্রে আঘাত হানার চেষ্টা করছে। তবে ডাউনিং স্ট্রিট দুই দেশের ঐতিহাসিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী বলে উল্লেখ করলেও মার্কিন মন্তব্যগুলোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর মালিক ইলন মাস্কও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন। তবে যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দেশে দুই-স্তরের কোনো বিচারব্যবস্থা নেই এবং আইন সবার জন্য সমান।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইতোমধ্যে নওয়াকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং হ্যাম্পশায়ার পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আইনি এই জটিলতা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলমান থাকলেও, ঘটনাটি বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগরের দুপারের ভূ-রাজনীতি, অভিবাসন নীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026