1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বরিশালে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ : জীবনের অভিজ্ঞতার বাস্তব কণ্ঠস্বর শুনি প্রবাসীদের ব্যাংকিং সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, বুঝতে পারিনি আপনিই ভারতের আসল বস, আমাকে ক্ষমা করে দিন: মাস্ক আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস, মানসিক সুস্থতায় সচেতনতার আহ্বান | Boishakhi Online নাভি পিল্লাইকে শান্তিতে নোবেল দিয়ে ‘ইসরায়েলবিরোধী ঘৃণাকে’ বৈধতা দেওয়া হয়েছে: ইসরায়েল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ নাভি পিল্লের নোবেল জয়ে আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সৌদিতে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানের পথ সুগম করতে চায় সরকার

নাভি পিল্লাইকে শান্তিতে নোবেল দিয়ে ‘ইসরায়েলবিরোধী ঘৃণাকে’ বৈধতা দেওয়া হয়েছে: ইসরায়েল

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাইকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল 'গণহত্যা চালাচ্ছে' বলে পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন গত বছর রায় দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির এই সিদ্ধান্তকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে বলেন, কমিটি 'তার নৈতিক দিকনির্দেশনা হারিয়েছে।' তিনি পিল্লাইয়ের তদন্তকাজের নিন্দা জানিয়ে তার বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তোলেন।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায়। তাদের অভিযোগ, এই পুরস্কারকে ' ইসরায়েলবিরোধী ঘৃণা ও পক্ষপাতকে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননও এই পুরস্কারের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক মুখপাত্রের মাধ্যমে তিনি বলেন, পিল্লাইকে এই পুরস্কার দেওয়া 'নোবেল কমিটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করবে এবং ইতিহাসের যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তি এই সম্মান পেয়েছেন তাদের ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করবে। নোবেল পুরস্কার পেলেই ইসরায়েল সম্পর্কে তার মিথ্যা সিদ্ধান্তগুলো সত্য হয়ে যাবে না।'

পুরস্কার ঘোষণার মূল বিবৃতিতে গাজা যুদ্ধ তদন্তে পিল্লাইয়ের ভূমিকার বিষয়টি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলেও, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর ওই তদন্তকাজটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল; যা তেল আবিবকে চরম ক্ষুব্ধ করে তোলে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ কেউ 'গণহত্যায় উসকানি দিয়েছেন।'

গত অক্টোবরে এক বিবৃতিতে নাভি পিল্লাই বলেছিলেন, 'ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে একটি একক ও ভয়ংকর লক্ষ্যের দিকেই ইঙ্গিত করেছে—তা হলো গাজায় ফিলিস্তিনিদের জীবন সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা।' যদিও গবেষক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আনা গণহত্যার এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল।

কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তা প্রত্যাখ্যান করে প্যানেলের সদস্যদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিশনের তিন সদস্যকে 'প্রকাশ্য ইহুদিবিদ্বেষী অবস্থানের জন্য কুখ্যাত' এবং 'হামাসের প্রক্সি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ কমিশনকে 'নৈতিকভাবে দেউলিয়া' এবং 'ইহুদি রাষ্ট্রকে দোষারোপে মত্ত' বলে অভিহিত করেন।

সে সময় সমালোচনার জবাবে পিল্লাই বলেছিলেন, 'আমি বরং চাইব আমাদের সমালোচকেরা বলুন—আমাদের কোথায় ভুল হয়েছে? এই প্রমাণের কোন অংশটি মিথ্যা এবং কেন?'

আন্তর্জাতিক তদন্তে গণহত্যার বিষয়ে নিজের দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছিলেন পিল্লাই। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার বিষয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও সভাপতি হিসেবে তিনি আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদের সংজ্ঞা প্রথম ব্যাখ্যা করা এবং গণহত্যার অপরাধে কোনো আসামিকে সাজা দেওয়ার প্রথম ট্রাইব্যুনাল ছিল এটি।

এর আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার প্রতিবেদন দেওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পূর্বে ২০২৪ সালের জুনে পিল্লাইয়ের কমিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল; যেখানে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সময় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সদস্যদের যুদ্ধাপরাধ এবং যৌন সহিংসতার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

২০২৩ সালের শেষের দিকে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের কড়া সমালোচক দক্ষিণ আফ্রিকা জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা দায়ের করে। যদিও ইসরায়েল এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছিল, তবে মামলাটি এখনও সক্রিয় রয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় হামাস যোদ্ধারা প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। জবাবে গাজায় বিধ্বংসী সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং উপত্যকাটির বেশিরভাগ অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026