1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৩, মামলা ৪০ ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’ নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ফের ট্রাম্পের ক্ষোভ বরিশালে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ : জীবনের অভিজ্ঞতার বাস্তব কণ্ঠস্বর শুনি প্রবাসীদের ব্যাংকিং সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, বুঝতে পারিনি আপনিই ভারতের আসল বস, আমাকে ক্ষমা করে দিন: মাস্ক আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস, মানসিক সুস্থতায় সচেতনতার আহ্বান | Boishakhi Online নাভি পিল্লাইকে শান্তিতে নোবেল দিয়ে ‘ইসরায়েলবিরোধী ঘৃণাকে’ বৈধতা দেওয়া হয়েছে: ইসরায়েল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, বুঝতে পারিনি আপনিই ভারতের আসল বস, আমাকে ক্ষমা করে দিন: মাস্ক

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা 'স্টারলিংক' চালুর অনুমতি পেতে দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষুব্ধ হয়ে দেশটির শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ওপর চটে আছেন আরেক ধনকুবের ইলন মাস্ক। গত বৃহস্পতিবার আম্বানিকে ভারতের 'বস' ডাকার এবার তাকে 'ভারতের প্রধানমন্ত্রী' বলে বিদ্রুপ করে সম্বোধন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) রিলায়েন্সের প্রধানকে নিজের টেলিকম সাম্রাজ্য রক্ষা করতে স্টারলিংককে ভারতে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।

ভারতে আসলে কার কথায় সবকিছু চলে তা বুঝতে না পারার জন্য ব্যঙ্গাত্মক ক্ষমা চেয়ে মাস্ক লেখেন, 'প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের আসল বস তা বুঝতে না পারার জন্য দয়া করে আমার বিনীত ক্ষমা গ্রহণ করুন।' এরপর তিনি অভিযোগ করেন যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ না দিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান। তিনি লেখেন, 'স্বাভাবিকভাবেই আপনি ভারতের মহান জনগণের ওপর আপনার একচেটিয়া শোষণ বজায় রাখতে পছন্দ করবেন, তবুও আপনি কি স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন?'

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট বাজার ভারতে প্রবেশের জন্য কয়েক বছর ধরে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মাস্কের মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ব্যবসা। মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, 'স্টারলিংক ১৬৫টিরও বেশি দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং ভারত সরকারের প্রতিটি আইন ও শর্ত মেনে চলার পেছনে পাঁচ বছর ব্যয় করেছে, তাহলে এখনও কেন লাইসেন্স নেই?'

মাস্ক যুক্তি দেন যে অন্যান্য নেটওয়ার্কের আওতাবহির্ভূত প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোকে সংযুক্ত করে স্টারলিংক শিক্ষা ও ব্যবসার সুযোগ উন্মোচন করতে পারে এবং দুর্যোগের সময় অন্য সব ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে জরুরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে পারে। শুক্রবার গভীর রাতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, 'সারা বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন অন্য সব যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে, তখন জীবন বাঁচাতে স্টারলিংক অপরিহার্য প্রমাণিত হয়েছে; সুতরাং আপনিও ভারতজুড়ে পুরুষ, নারী ও শিশুদের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারতেন।'

তবে ভারত সরকার জানিয়েছে যে স্টারলিংককেও তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো একই নিয়মমাফিক নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বৈষম্যের অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণা' বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দেশটির টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, 'ভারত কোনো খাতেই একচেটিয়া আধিপত্য অনুমোদন করে না।'

স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগের প্রাথমিক লাইসেন্স পেলেও সেবা চালুর জন্য এখনও তাদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং তরঙ্গ বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, স্টারলিংক, রিলায়েন্সের 'জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস' এবং ভারতী এয়ারটেল সমর্থিত 'ইউতেলসাত ওয়ানওয়েব' অনুমোদনের প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। এই সপ্তাহে দিল্লিতে এক শিল্প সমাবেশে স্টারলিংকের নির্বাহীরা বলেন, 'ভারত প্রস্তুত হওয়া মাত্রই আমরা সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।'

তবে সরকারের কাছে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগের অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি কোনো ব্যবস্থার ওপর নিজস্ব আইন প্রয়োগের বিষয়গুলো জড়িত রয়েছে। ভারতের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড বাজারের ৮০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে রিলায়েন্স জিও এবং সুনীল ভারতী মিত্তালের ভারতী এয়ারটেল। সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে ভারতে স্টারলিংকের সরঞ্জাম ও সেবা বিতরণের জন্য গত বছর উভয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই চুক্তি করেছিল স্পেসএক্স। তবে ভারতের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর জিও এবং এয়ারটেলের নিজেদেরও স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বড় পরিকল্পনা রয়েছে। রিলায়েন্স লাক্সেমবার্গভিত্তিক এসইএস-এর সঙ্গে অংশীদারত্বে জিও স্যাটেলাইট গড়ে তুলছে এবং এয়ারটেলের বড় বিনিয়োগ রয়েছে স্টারলিংকের বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইউতেলসাত ওয়ানওয়েবে।

আম্বানির সঙ্গে মাস্কের এই সংঘাত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মাস্কের আগের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে মোদি ও মাস্কের বৈঠকের পর আশা তৈরি হয়েছিল যে টেসলা ভারতে গাড়ি কারখানায় বিনিয়োগ করবে এবং স্টারলিংকও ছাড়পত্র পাবে। কিন্তু ভারতে মাস্কের অন্যান্য ব্যবসাও ধুঁকছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মুম্বাইতে প্রথম শোরুম খুলে আমদানিকৃত গাড়ি বিক্রি শুরু করে টেসলা; যা সরকারকে হতাশ করেছিল, কারণ ভারত সেখানে কারখানা ও কর্মসংস্থান চেয়েছিল।

খবরে জানা গেছে, প্রথম ১৫ মাসে টেসলার বিক্রি হয়েছে মাত্র ১ হাজার গাড়ি। উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে টেসলার গাড়ি ব্যয়বহুল হলেও চীনের বিওয়াইডি এবং ভিয়েতনামের ভিনফাস্টের মতো স্বল্পমূল্যের নির্মাতারা ভারতে ব্যবসা বাড়াচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইন কনটেন্ট সরানোর সরকারি নির্দেশ নিয়ে মাস্কের প্ল্যাটফর্ম এক্স আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে রয়েছে এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাস্কের সম্ভাব্য দুটি ভারত সফরও বাতিল হয়েছিল।

এদিকে মাস্কের এই অভিযোগ ভারতের রাজনীতিতেও আলোচনার ঝড় তুলেছে। নাম না উল্লেখ করে ব্যবসায়ী স্বার্থের ওপর মাস্কের আগের এক আক্রমণের জবাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী লিখেছিলেন, 'ভারতে স্বাগতম, ইলন। আপনি অন্য ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে আরেক ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হচ্ছে। জবাবে মাস্ক লিখেছিলেন, 'ধন্যবাদ, রাহুল। এটি আসলেই উদ্বেগজনক।'

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026