আবু ধাবি টেস্টের দ্বিতীয় দিন আফগানিস্তানের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ।
প্রথম ওভারে বাজে রিভিউ নেওয়া বাংলাদেশ এবার রিভিউ নিল না! আর এর মাশুল দিল উইকেট ‘হারিয়ে।’
হাসান মাহমুদের নতুন ওভারের প্রথম বল ঠিকঠাক খেলতে পারেননি সেদিকউল্লাহ আটাল। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটন দাসের গ্লাভসে।
জোরাল আবেদন করলেও রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। একটু পরে রিপ্লেতে দেখানো হয়, ব্যাটের কানা ছুঁয়ে দিক অনেকটা পাল্টে জমা পড়েছিল গ্লাভসে। সে সময় ভীষণ হতাশ ও ক্ষুব্ধ দেখায় নাজমুল হোসেন শান্তকে।
মাত্র ১৩ বলের মধ্যে রিভিউ নিয়ে তালগোল পাকালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। যেটা নেওয়ার কোনো দরকার ছিল না, সেটা নিলেন। আর পরে যেটা অবশ্যই নেওয়া উচিত ছিল, সেটা নিলেন না।
৩ ওভারে আফগানিস্তানের রান বিনা উইকেটে ৫।
আফগানিস্তান ইনিংসের প্রথম ওভারে রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ। হারাল প্রথম রিভিউ।
হাসান মাহমুদের অফ স্টাম্পের একটুর বাইরের বল ব্যাটে খেলতে পারেননি সেদিকউল্লাহ আটাল। প্যাডে লেগে জমা পড়ে কিপার লিটন দাসের গ্লাভসে।
বোলার আগ্রহী ছিলেন না কিন্তু স্লিপ ফিল্ডারদের আত্মবিশ্বাস দেখে রিভিউ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাতে কাজ হয়নি।
ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে এক প্রান্তে লড়াই করলেন নাঈম হাসান। তবে আরেক প্রান্তে তিনি পেলেন না যোগ্য সঙ্গ। তাতে দ্বিতীয় দিন বেশিক্ষণ টিকল না বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ৩৪৬ রানে।
এদিন মাত্র ৮.৩ ওভারে বাংলাদেশের শেষ দুটি উইকেট নেয় আফগানিস্তান।
ইবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন ইয়ামিন আহমাদজাই। মিডল-লেগ স্টাম্পের বলে ব্যাট পেতে দেন ইবাদত, ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় পয়েন্টে। সেখানে অনায়াসে মুঠোয় নেন জিয়া-উর-রেহমান।
৬৭ বলে চার চারে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম। টেস্টে এটাই তার সর্বোচ্চ। আগের সেরা ছিল ২৬। নিজের অভিষেক ইনিংসে ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩১৭/৮) ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬ (নাঈম ৩৫*, তাইজুল ৯, ইবাদত ০; আহমাদজাই ২০.৩-৩-৭৯-৩, সালিম ২৩-২-৮২-৪, শাহিদি ৩-০-২৪-০, আলম ১২.৪-৫-২০-২, জিয়া ১৯-১-৭৭-০, কাইস ১৪.২-১-৬০-১)
দিনের শুরুতেই সাফল্য পেল আফগানিস্তান। রিভিউ নিয়ে তাইজুল ইসলামকে ফেরাল তারা।
মোহাম্মাদ সালিমের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে পুল করেন তাইজুল। ব্যাটে খেলতে পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। গ্লাভসে ছুঁয়ে জমা পড়ে কিপার ইকরাম আলিখিলের গ্লাভসে।
জোরাল আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন আফগানিস্তান অধিনায়ক। তাতে মেলে সাফল্য, ভাঙে ৫৭ বল স্থায়ী ৩০ রানের জুটি।
৯০ ওভারে বাংলাদেশের রান ৯ উইকেটে ৩৩৫। ক্রিজে তাদের শেষ জুটি।
এক সময় ২ উ্ইকেটে ২২১ রানের দৃঢ় ভিতের উপর দাঁড়ানো বাংলাদেশের সামনে এখন সাড়ে তিনশ রানই অনেক দূরের পথ। তবে শেষ দুই উইকেট নিয়ে যতটা সম্ভব এর কাছাকাছি যেতে চাইবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
আবু ধাবিতে শনিবার ৮ উইকেটে ৩১৭ রানে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হবে বেলা ১২টায়।
আগের দিন এক পর্যয়ে ৯৬ রান যোগ করতে বাংলাদেশ হারায় ৬ উইকেট।
৩৩ বলে এক চারে ১১ রানে ব্যাট করছেন নাঈম হাসান। ১০ বলে চার রানে খেলছেন তাইজুল ইসলাম।
তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম ও লিটন দাস পঞ্চাশ ছুঁয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। দুই অঙ্ক স্পর্শ করা মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ পঞ্চাশ পর্যন্ত যেতে পারেননি।
শূন্য রানে ফেরেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
৭০ রানে ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ সালিম। দুটি করে উইকেট নেন ইসমাত আলম ও ইয়ামিন আহমাদজাই।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৮৪ ওভারে ৩১৭/৮ (সাদমান ৬৭, তানজিদ ৮৩, মুমিনুল ৩৯, শান্ত ২৯, মুশফিক ০, লিটন ৫৩, মিরাজ ২৪, নাঈম ১১*, হাসান ২, তাইজুল ৪*; আহমাদজাই ১৬-৩-৬২-২, সালিম ১৯-১-৭০-৩, শাহিদি ৩-০-২৪-০, আলম ১২.৪-৫-২০-২, জিয়া ১৯-১-৭৭-০, কাইস ১৪.২-১-৬০-১)
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সবশেষ খবরাখবর নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আছি অনীক মিশকাত।