1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়াকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা ট্রাম্পের ৩৪৬ রানে থামল বাংলাদেশ আবুধাবি টেস্ট: সাড়ে তিনশ’র আগেই অলআউট বাংলাদেশ এবারও জুটল না নোবেল: ট্রাম্পের জেতার ‘আশা’ করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিম্নমানের যাত্রীসেবায় ক্ষুণ্ন হচ্ছে ঢাকা বিমানবন্দরের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী স্ক্রলের আড়ালে বাড়ছে মানসিক রোগ, নেই প্রকৃত তথ্য আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে আবার ক্লাব ফুটবলের রোমাঞ্চের অপেক্ষা বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষের শিকার আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হিরা

খেলাপি ঋণ কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: দেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট দূর করতে খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায় জোরদার করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধের সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে পুরো আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব পরিকল্পনা ও রূপরেখা তুলে ধরা হয়। কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর নিয়মিত বৈঠক করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব আলোচনায় ঋণ আদায়ে অন্তরায়গুলো চিহ্নিত করে তা দূর করার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হবে।

পাশাপাশি ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস-৯) অনুসরণ করে 'এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস' বা প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণিকরণ ও সংস্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য ক্ষতি আগে থেকেই নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, ব্যাংক খাতে ছাড় দেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে এবং ঋণগ্রহীতাদের জন্য কার্যকর প্রণোদনা কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণ আদায়ে অসামান্য ভূমিকা রাখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ও ভালো ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের চিহ্নিত করে তাদের উৎসাহিত করার ব্যবস্থাও হালনাগাদ করা হবে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হবে। ঋণ অনুমোদন, তদারকি ও আদায়ের প্রতিটি ধাপে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ সৃষ্টির মূল কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ব্যাংকিং খাতের ওপর তীব্র চাপ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এর আগে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা (৩০.৯২ শতাংশ)। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে তাৎক্ষণিক আদায় তৎপরতার পাশাপাশি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আধুনিকায়নের কাজও জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। এর অংশ হিসেবে প্রণয়ন করা হয়েছে 'ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া। এ ছাড়া ঋণ আদায় প্রক্রিয়া বেগবান করতে 'অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬', 'দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬' এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আদলে আধুনিক 'দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া কার্যক্রম আইন, ২০২৬' প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আইএফসি-এর সহায়তায় এসব আইনের খসড়া আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর হবে, ঋণ বিতরণে কঠোর শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026