তারেক রহমানকে কানাডা সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের উন্নয়নে কানাডার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার সচিবালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করতে এলে সরকারপ্রধান এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বলে জানান তার উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ কানাডার মতো বন্ধু রাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।”
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট কীভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন উপ প্রেস সচিব স্বাধীন।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে।
“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারের হাতেই।”
কানাডীয় প্রতিমন্ত্রী রণদীপ রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বলে জানান উপ প্রেস সচিব স্বাধীন।
তিনি বলেন, বৈঠকে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নয়ন, নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ডাল-তেল বীজ খাতে সহযোগিতা, কৃষি কার্ড ও কৃষি তথ্য ব্যবস্থাপনা, ফ্যামিলি কার্ড ও দারিদ্র্য বিমোচন, জ্বালানি নবায়ন ও খাল খনন ও জলবায়ু খাতে অর্থায়নে কানাডার সহযোগিতা চাওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে, যা কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।”
শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন বলেন, ‘‘বৈঠকে কানাডার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তরফে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে কানাডা বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে বলা হয়।”
কানাডার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার বিষয়ে কানাডার ভাবনা রয়েছে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহ প্রকাশ করে বলে জানান উপ প্রেস সচিব স্বাধীন।
কানাডা সফরের আমন্ত্রণ: এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরে প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
উপ প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ঢাকায় কানাডার হাই কমিশনার অজিত সিং অন্যদের মধ্যে বৈঠকে ছিলেন।
মদ, নাচানাচি ও রাষ্ট্রের নৈতিক পাহারাদারি
‘রাস্তা আছে যেখানে, অটো চলবে সেখানে’
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: ডিজিটাল সংবাদপত্রের পথিকৃৎ