1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৯৫৪ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নিম্নমানের কাজ দেখে মন্ত্রীর ক্ষোভ ম্যান সিটির শিরোপা কেড়ে নেওয়াসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান জেরার্ড শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে ফিরলেন নিসাঙ্কা, নতুন মুখ বান্দারা-মালিঙ্গা পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনে নতুন দায়িত্বে পেপে জরুরি তেলের মজুত কমছে, সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি: আইএমএফ ঢাকা-চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ ২৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য ৭ নভেম্বর ঢাকায় গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশ পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস

জরুরি তেলের মজুত কমছে, সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি: আইএমএফ

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশ্বে জরুরি তেলের মজুত কমে আসছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কোনো সংকট দেখা দিলে বিশ্ব অর্থনীতি তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতার সীমায় পৌঁছে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সংস্থাটির সর্বশেষ বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব আশঙ্কার তুলনায় ভালোভাবে সামাল দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। তবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবহৃত জরুরি মজুত ও নীতিগত সুযোগ এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

আইএমএফের মতে, হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথে তেল সরবরাহ এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতিগত প্রস্তুতি পুনর্গঠন করা জরুরি। তা না হলে নতুন সংঘাত বা সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে।

গত মার্চে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াতে ইতিহাসের বৃহত্তম জরুরি তেল মজুত ছাড়ার ঘোষণা দেয়। গত মাসে জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এ কার্যক্রম আরও দ্রুত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

তবে জরুরি মজুতের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে, জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টায় গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফের বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ সপ্তাহে সেখানে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে চলতি বছরের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে এ হার ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছর ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। ২০২৭ সালের জন্যও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের ২ দশমিক ২ শতাংশের চেয়ে বেশি।

যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রেও চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় এ হার ০ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। তবে আগামী বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে ২০২৭ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

ব্যাংককে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় আইএমএফের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সিলভানা তেনরেইরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো সংকট সামাল দেওয়ার সক্ষমতা দেখাচ্ছে, তবে সেই সক্ষমতা ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। তাঁর মতে, নীতিনির্ধারকদের চলমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য অর্থনীতির ভিত্তিও শক্তিশালী করতে হবে।

বিশ্বজুড়ে সরকারি ঋণ বাড়তে থাকায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি সরকারগুলোকে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নিতে আর দেরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সংকট মোকাবিলার উপায় ও সরঞ্জাম সরকারের হাতে রয়েছে; এখন সেগুলো বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহারের সময়।

আইএমএফের আশঙ্কা, অনেক দেশের ঋণ ও বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি বা খাদ্যের দাম আবার বাড়লে সাধারণ ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে সরকারগুলোর হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নাও থাকতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026