প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, ফকির লালন সাঁইয়ের শিক্ষা স্কুলেও পৌঁছে যাক।ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার কুষ্টিয়ার ছেঁউরিয়ায় আখড়াবাড়িতে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, তিন-চার সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এসে জানতে চান, লালন উদযাপনে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্কুলভিত্তিক কোনো কর্মসূচি আছে কি না এবং স্কুলের শিশুরা কীভাবে লালন সম্পর্কে জানতে পারবে, তা-ও জানতে চান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান, লালনের শিক্ষা স্কুলেও পৌঁছে যাক।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, লালনের দর্শন বর্তমান বিশ্বের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে নানা ধরনের পরিচয়কেন্দ্রিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। মানুষ নিজের পরিচয় সামনে এনে সংঘাতে জড়াচ্ছে—কেউ সাদা না কালো, মুসলিম না হিন্দু, ইহুদি না মুসলিম। এ পরিস্থিতিতে লালনের দর্শন অনন্য।
তিনি আরও বলেন, ফকির লালন জাত, ধর্ম, লিঙ্গসহ সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে পৃথিবী এখন যে কারণে অশান্ত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই জায়গায় লালন কাজ করতে পারে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কুষ্টিয়া একদিন লালন নগরী হবে। এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। গড়াই-মধুমতিতে আবার নৌকা চলবে, সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন ও সাবেক সংসদ সদস্য মেহেদী আহমেদ রুমী।
আজ সন্ধ্যায় রাখাল সেবার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সাধুসঙ্গ। আগামীকাল রোববার দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এর মূল আনুষ্ঠানিকতা।