1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে উন্নতি কেবল পর্তুগালেরই আন্তর্জাতিক বিরতি: মেসির বিদায়, রোনালদোর নির্বাসন থেকে বাংলাদেশের দুর্দশা বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল টয়োটা সুপ্রিম কোর্টে রাতে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নারীসহ ৩ বিদেশির মৃত্যু, আহত ৩৬ নড়িয়ার ওসিকে হুমকির অভিযোগ, বিএনপি নেতা সাগর বহিষ্কার বগা আমার গাড়িতে উঠেছে প্রমাণ করুন, রাজনীতি ছেড়ে দেব: মেয়র শাহাদাত ‘বগা সিটি করপোরেশনে এসেছিল- প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব’ রেখে গেছ অমর ইতিহাস: মেসির বিদায়ে রোনালদোর শ্রদ্ধার্ঘ্য | Boishakhi Online

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য সম্পাদিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঘিরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারি জোট, বিরোধী দল এবং সামরিক বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে ইসরায়েল কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে।

চুক্তি ঘোষণার পরপরই দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা প্রকাশ্যে সমালোচনায় মুখর হন। বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে এটি একটি বড় কূটনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ। তার দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ইসরায়েল আলোচনার প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ পায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধ শুরুর সময় যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার কোনোটি অর্জিত হয়নি।

লাপিদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কৌশলগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, কূটনৈতিক সমন্বয়ের অভাব এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে সীমাবদ্ধতার কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক পরিসরে দুর্বল অবস্থানে পড়ে গেছে। এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সময় লাগতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারবিরোধী অন্যান্য নেতারাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ইয়ার গোলান বলেন, যুদ্ধ চলাকালে যে লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের সামরিক অভিযান সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অক্ষত রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা অ্যাভিগডোর লিবারম্যানও চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিল সামরিক সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে ইসরায়েলকে অধিকতর কঠিন শর্তে মোকাবিলা করতে হতে পারে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের মধ্যেও চুক্তিটি নিয়ে সমালোচনা দেখা গেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘর্ষ এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পর এই যুদ্ধবিরতি ইরানের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে। এতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েল সরকারের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। ফলে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ইরান যদি সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে এই বিরতিকে কাজে লাগায়, তবে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা নির্ভর করবে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পরবর্তী কৌশলগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026