1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন

ঢাকা শহরে চলতে পারবে না লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা, নীতিমালা প্রকাশ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

রাজধানী ঢাকায় যাত্রী পরিবহনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের নীতিমালা প্রকাশ করেছে সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স ব্যতীত ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, ই-রিকশা নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন, জমা দেওয়া কাগজপত্র এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দিতে হবে।

কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নির্ধারিত নম্বর প্লেট দেবে। কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বরটি ই-রিকশার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

কোনো আবেদন নামঞ্জুর হলে কর্তৃপক্ষকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। এ সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে যেকোনো এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।

বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি নকশার ভিত্তিতে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না। ফিটনেস সনদ প্রদানকারী ও প্রতিস্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে।

বিধিমালাটি স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

পুরোনো ই-রিকশার কাঠামো সংশোধন করতে হবে

বিধিমালায় বলা হয়েছে, বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলো বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নকশা অনুযায়ী কাঠামোগত সংশোধন করে অনুমোদন নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে।

পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ই-রিকশাকে বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হবে।

প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর। এ সময় শেষ হলে নম্বর প্লেটসহ সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক। যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাগত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না। কোনো ত্রুটি দেখা দিলে গাড়ির সামনের দৃশ্যমান স্থানে 'যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলাচল অযোগ্য' লেখা সাইনবোর্ড প্রদর্শন করে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে।

মেট্রোপলিটন এলাকার ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে বা পৃথকভাবে অবৈধ ই-রিকশা চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশা জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোর এবং প্রশাসনের নিষিদ্ধ করা সড়কে চলতে পারবে না। ফুটপাতেও ই-রিকশা চালানো যাবে না।

চালককে সব সময় সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। নিয়মবহির্ভূতভাবে ওভারটেকিং বা লেন পরিবর্তনও নিষিদ্ধ।

ই-রিকশায় চালক ছাড়া গাড়ির আকারভেদে সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী পরিবহন করা যাবে। যাত্রীদের হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য বহন করা যাবে না।

ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে ই-রিকশা চালানো যাবে।

ই-রিকশা চলাচলের জন্য কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট নির্ধারণ করবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় জোনভিত্তিক রুট চালু হবে। এক জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।

ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে জোনের সীমানা, প্রতিটি জোনে ই-রিকশার সংখ্যা, চলাচলের রুট এবং ই-রিকশার জন্য নির্দিষ্ট রং চূড়ান্ত করবে।

চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে বিধিমালায়। কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন, সড়ক নিরাপত্তা, ব্যাটারি ও ই-রিকশার রক্ষণাবেক্ষণসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ।

অনুমোদিত স্থানে ব্যাটারি চার্জ করতে হবে

বিধিমালা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, বেসরকারি খাত বা অন্য উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন, গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেবে কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ নিতে এবং অনিয়ন্ত্রিত ও নিয়মবহির্ভূত চার্জিং বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে বৈধভাবে নিবন্ধিত চার্জিং স্টেশনেই ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা যাবে। চার্জিং স্টেশনে নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিডের সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এ ব্যবস্থায় দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে রাতে গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে।

চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইনে শাস্তি দেওয়া হবে।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, তফসিলি ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানি অনুমোদিত মানের ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণে ই-রিকশার চালক ও মালিকদের ঋণ সহায়তা দিতে পারবে।

ই-রিকশা উৎপাদন, আমদানি, ব্যবহার এবং ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবস্থাপনার সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, এর অধীনে প্রণীত বিধিমালা এবং জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026