লাঞ্চের আগে জাস্টিন গ্রিভসকে ফিরিয়ে শুরুটা করেছিলেন নাঈম হাসান। বিরতির পর তার ঘূর্ণিতেই ভেঙে পড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ প্রতিরোধ। এক ওভারে দুই উইকেট নেওয়ার পর শেষ ব্যাটসম্যানকেও ফিরিয়েছেন এই অফ স্পিনার। তাতে মিরপুর টেস্টে ২৭ রানের লিড নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামবে স্বাগতিকরা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে ২৪৫ রানে অলআউট হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭২ রানের জবাবে এই রান তুলেছে সফরকারীরা। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন নাঈম। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি করে শিকার শরীফুল ইসলাম ও হাসানের।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস দিনের শুরুতে ভালোভাবেই সামলাচ্ছিলেন বাংলাদেশের বোলারদের। এর মধ্যে ১৬৪ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট ফিফটি তুলে নেন চন্দরপল।
তবে ক্যারিবীয় এই ওপেনারকে বেশিদূর যেতে দেননি শরীফুল। ইনিংসের ৫৯তম ওভারে তার বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন চন্দরপল। ১৮২ বলে করেন ৫৬ রান।
চন্দরপলের বিদায়ের পর অধিনায়ক রোস্টন চেজকে নিয়ে দলের ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন গ্রিভস। এই জুটি ভাঙার সুযোগও এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু নাঈমের বলে শর্ট লেগে চেজের ক্যাচ নিতে পারেননি মুমিনুল হক। তখন ২৭ রানে ব্যাটিং করছিলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক।
তবে লাঞ্চের ঠিক আগমুহূর্তে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন নাঈম। তার ভেতরে ঢোকা নিচু বাউন্সের বলে এলবিডব্লিউ হন গ্রিভস। ৪৬ রান করে ফেরেন তিনি। তাতে ৬ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে প্রথম সেশন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে অবশ্য দ্রুত রান তুলতে থাকে সফরকারীরা। প্রথম ১৪ বলেই চারটি চার আসে। এর মধ্যে তিনটি চার মারেন অভিষিক্ত জশুয়া বিশপ। তবে তাকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয়দের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটান মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ তখন ২৪০ রান।
এরপর আর খুব বেশি সময় লাগেনি বাংলাদেশের। এক ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করেন নাঈম। ওভারের দ্বিতীয় বলে শামার জোসেফকে উইকেটকিপার লিটন দাসের ক্যাচ বানান তিনি। ষষ্ঠ বলে এলবিডব্লিউ করেন জোমেল ওয়ারিক্যানকে।
শেষ ব্যাটসম্যান জেইডেন সিলসকেও ফেরান নাঈম। তার বলে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড অফে ক্যাচ দেন সিলস। রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। শেষ তিন উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫ রান যোগ করতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।