বিশ্বকাপের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন পরিকল্পনায় দল পুনর্গঠনের পথে হাঁটছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী নভেম্বর মাসে এশিয়ার মাটিতে জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের শক্তিশালী জাতীয় দল ঘোষণা করেছেন তিনি। ঘোষিত এই স্কোয়াডে বড় চমক হিসেবে প্রথমবারের মতো সেলেসাওদের জার্সি গায়ে তোলার ডাক পেয়েছেন পাঁচজন উদীয়মান ফুটবলার।
আন্তর্জাতিক এই ফুটবল উইন্ডোতে আগামী ১৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মাঠে জাপানের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ১৭ নভেম্বর একই ভেন্যুতে স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবেন ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়ারা।
নতুনদের মধ্যে প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন ক্রুজেইরোর ডিফেন্ডার জোনাথন জেসুস, করিন্থিয়ান্সের মিডফিল্ডার আন্দ্রে লুইজ, ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড অ্যালান এবং ইউক্রেনীয় ক্লাব শাখতার দোনেৎস্কের দুই তরুণ তুর্কি মারলন গোমেজ ও অ্যালিসন সান্তানা।
তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী কোচ আনচেলত্তি। এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, স্কোয়াডে ডাক পাওয়া প্রতিটি খেলোয়াড়েরই নিজস্ব ও আলাদা ফুটবলীয় গুণ রয়েছে। বিশেষ করে জোনাথন জেসুসকে একজন অত্যন্ত শক্তিশালী, দ্রুতগতির, আক্রমণাত্মক মানসিকতার ও দূরদর্শী বুদ্ধিমান ডিফেন্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। পাশাপাশি মারলন গোমেজের মাঠের তীব্র গতিশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রাজিল বস। আনচেলত্তির মতে, নভেম্বরের এই দুটি প্রীতি ম্যাচ মূলত নতুনদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা এবং জাতীয় দলের কৌশলের সঙ্গে তাদের মানিয়ে নেওয়ার একটি চমৎকার সুযোগ।
স্কোয়াড নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঘরোয়া ফুটবলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ব্রাজিলের চলমান ঘরোয়া লিগের শিরোপা লড়াইয়ে শীর্ষে থাকা ফ্ল্যামেঙ্গো ও পালমেইরাস ক্লাবের কোনো খেলোয়াড়কে এবার জাতীয় দলে না ডেকে বাইরে রাখা হয়েছে। বাকি ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে অবশ্য খেলোয়াড় নির্বাচনে কোনো বাধা ছিল না।
ব্রাজিল ফুটবলের পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানো এই কৌশলের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, চলমান ঘরোয়া লিগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটজনক মুহূর্তে ক্লাবগুলো যাতে মারাত্মক খেলোয়াড়সংকটে না পড়ে, সেই সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ কারণে আনচেলত্তি ঘরোয়া লিগের অন্যান্য ক্লাবগুলো থেকেও সর্বোচ্চ একজন করে খেলোয়াড় বেছে নিয়েছেন। এ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন কোরিতিবার গোলরক্ষক পেদ্রো মরিস্কো, অ্যাতলেটিকো পারানায়েন্সের ডিফেন্ডার আর্থার দিয়াস, ক্রুজেইরোর জোনাথন জেসুস, করিন্থিয়ান্সের আন্দ্রে লুইজ, বোটাফোগোর দানিলো এবং সান্তোসের গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পো। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তরুণ আগেই সেলেসাওদের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক সম্পন্ন করেছেন।
আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বরের মধ্যে সিঙ্গাপুরে পুরো স্কোয়াডকে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন কোচ। জাপানের বিপক্ষে লড়াই দিয়ে শুরু হবে ব্রাজিলের মাঠের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এর আগে সর্বশেষ ফিফা উইন্ডোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটিতে ১-১ গোলে ড্র করেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-২ গোলের রাজকীয় জয় তুলে নেয় তারা। এরপর ভারতকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছিল আনচেলত্তির শিষ্যরা।
জাপান ও সিঙ্গাপুর সফরের জন্য ব্রাজিলের ঘোষিত ২৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: বেন্তো, লুকাস পেরি ও পেদ্রো মরিস্কো।
ডিফেন্ডার: আর্থার দিয়াস, কার্লোস আগুস্তো, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, জাইর কুনহা, জোনাথন জেসুস, ভেন্ডারসন, ভিটর রেইস ও ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার: আন্দ্রে লুইজ, আন্দ্রে সান্তোস, ব্রুনো গুইমারেস, দানিলো, গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পো, জোয়াও গোমেজ ও মারলন গোমেজ।
ফরোয়ার্ড: অ্যালিসন সান্তানা, অ্যালান, এন্ড্রিক, এস্তেভাও, রাফিনিয়া, রায়ান ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।