“কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবেন না। সরকার আপনাদের নিয়ে কাজ করছে”, বলেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অন্তত চার ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিক্ষোভ শুরু করেন ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আধা ঘণ্টা পর তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।
বেলা আড়াইটার দিকে এ সড়কের ভূঁইগড় এলাকায় শ্রমিকের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। তবে এ সময় হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি নামলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।
অন্তত ৩০ মিনিট বৃষ্টির মধ্যে শ্রমিকরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়লে কিছুক্ষণের জন্য এ সড়কে যান চলাচল করতে দেখা যায়। যদিও পরে আবার শিবু মার্কেট এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জড়ো হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবেন না। সরকার আপনাদের নিয়ে কাজ করছে। আপনাদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত আসবে।”
মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং কারখানার শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু বাসা ভাড়াই তো সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এক মাসের বাজারে লাগে আরও ১০ হাজার। চিকিৎসার একটা টেস্ট করাইতে লাগে পাঁচ হাজার টাকা। বাকি টাকা আমরা কই থেইকা জোগার করমু? আমাদের দাবি একটাই, বেতন ৩০ হাজার করতে হবে।”
হাবিবুর রহমান নামের আরেক শ্রমিক বলেন, চার সদস্যের পরিবারে তিনিই একমাত্র উপার্জনকারী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিদ্যমান মজুরিতে তাদের সংসার চালানো যাচ্ছে না।
“বাঁচার মতো বেতন দিতে হবে। আমরা কাজ করেই বাঁচতে চাই। কাজ ছাড়া তো টাকা চাই না। শহরে বাসার ভাড়া তো আপনারা জানেন। আমাদের বেতন যদি না বাড়ায় তাইলে গ্যাস, বিদ্যুতের দাম আর দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দিক। না হলে আমাদের বেতন বাড়িয়ে ৩০ হাজার করতেই হবে। না হলে আমরা আন্দোলন থামাব না,” যোগ করেন ওই শ্রমিক।
ঢাকা ও গাজীপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনে হতাহতের ঘটনারও প্রতিবাদ জানান শ্রমিকরা।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ঘটনাস্থল থেকে বলেন, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসেন। কয়েকটি কারখানার কয়েকশ শ্রমিক সড়কে অবরোধ করে রাখে। এতে যান চলাচল বিঘ্ন হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। সড়কে পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামানের গাড়িও প্রস্তুত থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া লোকজনকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কেউ কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন, কাউকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
সিলেট থেকে আসা যাত্রী হাজেরা বেগম বলেন, সাইনবোর্ড এলাকায় বাস থেকে নামেন তিনি। পরে আধা কিলোমিটার পথ তিনি একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় এলেও পথে তাকে নেমে যেতে হয়। ব্যাগ হাতে তাকে হেঁটেই যেতে দেখা যায়। তার গন্তব্য অন্তত ছয় কিলোমিটার দূরের চাষাঢ়া বলে জানান।
“একা একজন মহিলা মানুষ আমি দুইটা ব্যাগ নিয়ে এত পথ কেমনে হাঁইটা যামু তাই ভাবতেছি,” বলেন হাজেরা।
ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকায় গরুবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে যানজটে পড়েছিলেন আব্দুর রহমান। এ চালক বলেন, “কাঞ্চন ব্রিজ থেকে রওয়ানা হইছিলাম, গরু নিয়ে যাবো গোগনগর। কিন্তু এক জায়গায়ই গত দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি। সামনে কতটুকু যানজট তাও বুঝতেছি না।”
বেলা সাড়ে ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সড়কের এক পাশে সরিয়ে নিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে সড়কটিতে যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে, শ্রমিকরা এখনো তাদের বিক্ষুব্ধ অবস্থান থেকে সরে যাননি।
শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবেন না। আপনাদের বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত ছিলেন।
যাদের শ্রমে সমৃদ্ধি, তাদের জীবন কতটা নিরাপদ?
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন কাঠামোর সন্ধানে
শ্রমিকের ঘাম, মালিকের বিলাস এবং ন্যায্য মজুরির প্রশ্ন
স্মৃতিতে তৌফিক: একজন পরামর্শক, একজন বন্ধু