দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে মোংলা বন্দর। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের মোংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফর ঘিরে বন্দর এলাকায় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। তবে বন্দরের আধুনিকায়নের পাশাপাশি স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দাবি খুলনা-মোংলা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও মোংলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণেও এবার কার্যকর উদ্যোগ নেবে সরকার।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি নতুন কনটেইনার জেটি। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে কনটেইনার ইয়ার্ড এবং বিপজ্জনক পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের জন্য পৃথক ইয়ার্ড। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় চার লাখ টিইইউএস কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা অর্জনের আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক আয়োজন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সমন্বয় করা হচ্ছে। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এ প্রকল্প ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের মতে, আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে মোংলা বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে মোংলায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মোংলার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বাগেরহাটে যাবেন। সেখানে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত ও নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে তাঁর খুলনার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। তাঁদের প্রত্যাশা, খুলনা-মোংলা মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি মোংলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু এবং এলাকায় নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেবে সরকার।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বন্দরের আধুনিকায়নের পাশাপাশি যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্ব দেবে সরকার। এতে মোংলাসহ পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে আসবে নতুন গতি।