‘হাসান মাহমুদের জন্মই যেন টেস্ট ক্রিকেটের জন্য।’ সাম্প্রতিক সময়ে ধারাভাষ্যকার, ক্রিকেট বিশ্লেক কিংবা সমর্থকদের মুখে প্রায়ই এই কথাটা শোনা যায়। কেনো তারা হাসানের এমন প্রশংসা করেন, পারফরম্যান্স দিয়েই সেটি বারবার প্রমাণ করছেন তিনি। যেমনটা করলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটিট্রক করে।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনের বাংলাদেশের জন্য রঙিন করেন হাসান। আগেরদিনের হতাশা ঝেড়ে ফেলে আফগানদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে তুলে নেন হ্যাটট্রিক। একই সঙ্গে ফাইফারও আদায় করেন নেন।
তবে পেসার হিসেবে প্রথম হলেও বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করা প্রথম বোলার নন হাসান। এর আগেও আরও দুইজন টাইগার বোলার টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন। অর্থাৎ তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান। আর সব সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করা অষ্টম বোলার হাসান। এর মধ্যে ওয়ানডেতে এসেছে পাঁচটি হ্যাটট্রিক আর টেস্টে তিনটি।
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন অলপ কাপালি। ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন বলে আউট করেছিলেন সাব্বির আহমেদ, দানিশ কানেরিয়া ও উমর গুলকে। এতে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ক্রিকেটের অভিজাত এই সংষ্করণে নিজের নামটা লিপিবদ্ধ করেন কাপালি।
ওয়ানডেতে প্রথম আর সব সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক ম্যাচ পেসার শাহাদাত হোসেন। ২০০৬ সালে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। টানা তিন বলে আউট করেছিলেন মুপামবিসি, এলটন চিগম্বুরা ও প্রসপার উতসেয়াকে।
২০১০ সালে এসে তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। ওয়ানডেতে এবারও প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। তবে রাজ্জাকের হ্যাটট্রিক ছিল ঘরের মাঠ মিরপুরে। দুটি ভিন্ন ওভার মিলিয়ে টানা তিন বলে রাজ্জাক ফিরিয়েছিলেন প্রসপার উতসেয়া, রেমন্ড প্রাইস ও ক্রিস্টোফার এমপফুকে।
এরপর ২০১৩ সালে টেস্টে দ্বিতীয় বাংলাদেশি আর সব সংস্করণ মিলিয়ে চতুর্থ বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন সোহাগ গাজী। চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলে এই টাইগার স্পিনার। সোহাগ গাজী আউট করেছিলেন কোরি অ্যান্ডারসন, বিজে ওয়াটলিং ও ডগ ব্রেসওয়েলকে।
একই বছর ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তৃতীয় আর সব সংস্করণ মিলিয়ে পঞ্চম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন পেসার রুবেল হোসেন। মিরপুরে রুবেল আউট করেছিলেন কোরি অ্যান্ডারসন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও জিমি নিশামকে।
পরের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে ওয়ানডেতে চতুর্থ আর সব সংস্করণ মিলিয়ে ষষ্ঠ বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন তাইজুল ইসলাম। অভিষেক ওয়ানডেতে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন তাইজুল। তিনি ফিরিয়েছিলেন পানিয়াঙ্গারা, জন নিয়াম্বু ও তেন্দাই চাতারাকে।
২০১৭ সালে ওয়ানডেতে পঞ্চম বাংলাদেশি ও সব সস্করণ মিলিয়ে সপ্তম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন তাসকিন আহমেদ। শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন তাসকিন। তিনি আউট করেছিলেন আসেলা গুনারত্নে, সুরাঙ্গা লাকমাল ও নুয়ান প্রদীপকে।
এবার টেস্টে তৃতীয় বাংলাদেশি ও সব সংস্করণ মিলিয়ে অষ্টম বোলার হিসেবে বাংলাদেশের জার্সিতে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান মাহমুদ। তবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করা আগের দুজন স্পিনার হলেও প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান। চলমান আফগানিস্তান সিরিজে তিনি আউট করলেন ইসমাত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমানকে।