আবুধাবির মাঠে ২৭২ রানের লক্ষ্যটা চ্যালেঞ্জিং ছিল বটে। তবে সেই লক্ষ্যে তানজিদ হাসান তামিমের সৌজন্যে দারুণ শুরুর পর যা হলো তা যেন দৃষ্টিকটু। ভালো অবস্থা থেকে ক্রমেই বদলাতে থাকল গল্প, একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকল বাংলাদেশ। জেতা দূরের কথা শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সঙ্গে লড়াইও জমাতে পারলেন না তাওহিদ হৃদয়রা।
আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ৯৯ রানে। জিম্বাবুয়ের ২৭১ রানের জবাবে মাত্র ১৭২ রান করতে পেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই হারে ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে গেল। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের চলমান দুর্দশার আরও একটি ছবি হয়ে রইল এই ম্যাচ।
ওয়ানডেতে ২৪০ রানের বেশি তাড়া করার লক্ষ্য থাকা এমন সবশেষ দশ ম্যাচের আটটাই হেরেছে তারা।
২৭২ রানের লক্ষ্যে সৌম্য সরকারকে নিয়ে আগ্রাসী শুরু আনেন তানজিদ। যে গতিতে রান আসছিল মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ সম্ভবত অনায়াসেই জিতে যাবে। সপ্তম ওভারে সৌম্য স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে উইকেট পতনের শুরু। ৪৭ রানে প্রথম উইকেট হারানো দল এরপর ছিল চরম দিকহারা।
তানজিদ ভাগ্যের সহায়তায় একাধিকবার বেঁচেও বড় করতে পারেননি নিজের সম্ভাবনাময় ইনিংস। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৬ করে পয়েন্টে দেন সহজ ক্যাচ। আউটের আগের বলেও থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন ফিল্ডারের ভুলে।
অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত তিনে নেমে থিতু হতে পারেননি। সাবেক অধিনায়ককে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউতে ছাঁটেন ব্র্যাড ইভান্স। শান্ত আউটের পাশাপাশি অহেতুক একটা রিভিউও নষ্ট করে যান।
ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয় এসে কীভাবে এগোবেন বুঝতে পারছিলেন না। জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা বাংলাদেশের স্পিন খেলছিলেন সামনের পায়ে। সুইপ-রিভার্স সুইপে হয়েছিলেন সফল। বাংলাদেশ ভিন্ন পথ নিয়ে হয় ব্যর্থ। ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন হৃদয় (২১ বলে ১৩) ও মোসাদ্দেক (১৮ বলে ১১)। হৃদয়কে ফিরিয়ে উল্লাসে মাতেন সিকান্দার রাজা। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা হৃদয়ের পর ফেরান সাইফ হাসানকেও। থিতু হওয়া সাইফ কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন কিপারের হাতে।
কিপার-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানের সাধ্য ছিল না একা নায়কোচিত কিছু করার। তার বিদায় খুবই ক্যাজুয়াল এক শটে। বিনা উইকেটে ৪৭ থেকে ৮ উইকেটে ১২৯ রানে পরিণত হওয়া দল পরে টেল-এন্ডারদের কল্যাণে হারের ব্যবধান কমায়। বাংলাদেশের ইনিংস মুড়ে ৪৫ রানে ৪ উইকেট নেন ব্র্যাড ইভান্স।
এর আগে আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে বোলিংয়ে নেমে শুরুতেই জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারে ধস নামিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া জিম্বাবুয়েকে এরপর পথ দেখান দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেইলর। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৫০ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের পথ পায় দলটি। সেঞ্চুরি না পেলেও আরভিনের ১০৬ বলে ৯৩ এবং টেইলরের ১০১ বলে ৮১ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৪৪ রানে ৩টি এবং শরিফুল ইসলাম ৪৭ রানে ২টি উইকেট নেন।