খরচ কমাতে ও ব্যবসা সহজ করতে একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি যৌথ পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।
ব্যবসা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত অনুমোদন, অনুমতিপত্র ও লাইসেন্স দিতে দেরি এবং বিভিন্ন সংস্থার কাজের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ৫টি খাতও চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন পৃথক ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে। এই পুরো প্রক্রিয়াকে একক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অধীনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স’-এর প্রথম বৈঠকে তিনি বলেন, পোর্টালটি চালু হলে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই লগ ইন করে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড এবং নির্ধারিত ফি দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গত আগস্টে এই টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা, কমপ্লায়েন্স বা নিয়ম পালনের খরচ কমানো এবং ব্যবসায়ের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ২১ সদস্যের এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
এর সভাপতিত্ব করছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির জানান, সরকার ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো এবং লাইসেন্সের নাম পাল্টে 'বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট' বা এমন কোনো নাম দেওয়ার কথা ভাবছে। এতে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হবে এবং প্রশাসনিক বিলম্ব কমবে।
এছাড়া, বিভিন্ন সংস্থা পৃথক পৃথক পরিদর্শন করায় ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। এ জটিলতা নিরসনে যৌথ পরিদর্শন ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই প্রক্রিয়ার অধীনে ভবন নিরাপত্তা, অগ্নি-নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একইদিনে পরীক্ষা বা পরিদর্শন সম্পন্ন করবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ' এই যৌথ পরিদর্শন অভিযানের নেতৃত্বে থাকবে।
দেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশি কর্মীরা বৈধ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং তারা নিয়মিত কর দেন।
ওয়ার্ক পারমিট ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।