1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বাংলাদেশ-নেপালের মতো ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি তুরস্কে ভবন ধসে শিশুসহ নিহত ৫ চট্টগ্রামে সাইকেল ট্র্যাকটি কোন কোন এলাকাকে যুক্ত করেছে? সিরিজের প্রথম ম‍্যাচে ব্যাটে-বলে বিবর্ণ বাংলাদেশ শান্তিতে নোবেল পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই যেভাবে অত্যন্ত আনন্দঘন ও অর্থপূর্ণ উপায়ে উদযাপন করতে পারেন বিশ্ব ডিম দিবস মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়: ট্রাম্প গজারিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ঢাবিতে দুই দিনব্যাপী তৃতীয় আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং সম্মেলন আজ পোস্টাল ভোটিংয়ের ‘বাংলাদেশ মডেল’ গ্রহণে আগ্রহী নেপাল-শ্রীলঙ্কা

ইতালিতে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারালেন ছোট ভাই

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৪১ বার দেখা হয়েছে

প্রবাস ডেস্ক

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লেইজে (Lecce) পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নয়ন ফকির (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গত বুধবার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নয়ন এবং অভিযুক্ত ঘাতক বড় ভাই হুমায়ুন ফকির মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর অভিযুক্ত বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

পারিবারিক সূত্র ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে বেশ কয়েক বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমান দুই ভাই হুমায়ুন ও নয়ন। তাঁরা দেশটির লেইজ শহরে একত্রে বসবাস করতেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। বুধবার রাতে বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাই নয়নকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রচুর রক্তক্ষরণে নয়নের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার একটি চাঞ্চল্যকর দিক হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত হুমায়ুন ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি ছোট ভাইয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ স্বজনদের দেখান এবং নিজেই তাকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন। পর্দার ওপারে নয়নের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। মুহূর্তের মধ্যে এই হৃদয়বিদারক খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছায় লেইজের স্থানীয় পুলিশ। তারা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি ইতালির পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং এলাকায় নিহতের বাড়িতে এখন চলছে মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা। স্বজনরা জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে সাধারণ বিষয়ে তর্কাতর্কি হতো, কিন্তু তা যে এমন রক্তক্ষয়ী পরিণতি পাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। এখন তাঁদের একমাত্র দাবি, নয়নের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়।

ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান পারিবারিক ও মানসিক চাপের কারণে মাঝেমধ্যেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদেশের মাটিতে একাকীত্ব, কর্মস্থলের চাপ এবং পারিবারিক দূরত্বের কারণে অনেক সময় প্রবাসীরা তীব্র মানসিক অবসাদে ভোগেন, যা পরবর্তীতে এমন সহিংস রূপ ধারণ করে। মুন্সীগঞ্জের এই প্রবাসী পরিবারের মর্মান্তিক পরিণতি স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে মরদেহ বাংলাদেশে আনার বিষয়ে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন স্বজনরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026