1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বাংলাদেশ-নেপালের মতো ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি তুরস্কে ভবন ধসে শিশুসহ নিহত ৫ চট্টগ্রামে সাইকেল ট্র্যাকটি কোন কোন এলাকাকে যুক্ত করেছে? সিরিজের প্রথম ম‍্যাচে ব্যাটে-বলে বিবর্ণ বাংলাদেশ শান্তিতে নোবেল পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই যেভাবে অত্যন্ত আনন্দঘন ও অর্থপূর্ণ উপায়ে উদযাপন করতে পারেন বিশ্ব ডিম দিবস মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়: ট্রাম্প গজারিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ঢাবিতে দুই দিনব্যাপী তৃতীয় আন্তর্জাতিক কম্পিউটিং সম্মেলন আজ পোস্টাল ভোটিংয়ের ‘বাংলাদেশ মডেল’ গ্রহণে আগ্রহী নেপাল-শ্রীলঙ্কা

সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের ছদ্মবেশী চক্রের মাধ্যমে যৌন দাসত্বে বাধ্য করার অভিযোগ, বাড়ছে উদ্বেগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ২৬ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

বিদেশে গৃহকর্মী হিসেবে কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নারী কর্মীদের একটি অংশকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি কথিত টিস্যু কোম্পানির নামে সক্রিয় সংঘটিত দালাল চক্রের মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। গত সাত বছরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ৮০ হাজার নারী কর্মী দেশে ফিরেছেন, যা দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অভিবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারিতে স্বামী হারানোর পর সংসারের জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ২০২৫ সালে ভাগ্য বদলের আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শিউলি (কাল্পনিক নাম) নামের এক নারী। সেখানে মূল নিয়োগকর্তার বাসায় অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি চাকরি পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। সেই সুযোগে এক দালাল চক্র তাকে একটি টিস্যু কোম্পানিতে ভালো বেতনে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী ওই নারী দেশে ফিরে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে জানান, তাকে দীর্ঘদিন একটি তালাবদ্ধ কক্ষে আটকে রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মারধর করা হতো এবং পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না। দিনরাত একটানা কাজ করানোর পাশাপাশি তার ওপর চরম অমানবিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে কোনো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি, বরং নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পাশবিক নির্যাতনের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়ে প্রায় পাঁচ মাস কারাভোগের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং একটি সন্তান জন্ম দেন।

সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদেশে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কেবল ২০২৫ সালেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২ হাজার নারী কর্মী চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। একই সময়ে বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ থেকে আরও ৭৪ হাজার পুরুষ কর্মীও দেশে ফেরত এসেছেন, যাদের একটি বড় অংশই দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ উপায়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। এই ধারা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে; চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত মাত্র চার মাসেই আরও প্রায় ২৪ হাজার কর্মী দেশে ফিরেছেন, যাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ২৩ হাজারেরও বেশি।

অভিবাসন নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী কর্মী বিভিন্ন দেশ থেকে চরম মানসিক, শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। একই সময়ে বিভিন্ন কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা ও রহস্যজনক কারণে মারা যাওয়া প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে, যা প্রবাসে নারী কর্মীদের সামগ্রিক নিরাপত্তাহীনতাকে স্পষ্ট করে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াতে শুরু থেকেই বড় ধরনের গলদ রয়ে গেছে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর পূর্বে তাদের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা, যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং দক্ষ কর্মী হিসেবে বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে, কোনো কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরলে যাতে তিনি দ্রুত আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার পান, তার স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি করতে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার দাবি জানান তারা।

এই বিষয়ে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, রিক্রুটিং এজেন্সি বা বিদেশি নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরব ও ওমানসহ প্রধান প্রধান কর্মী গ্রহণকারী দেশগুলোতে স্থানীয় আইনি প্রতিষ্ঠানের (লিগ্যাল ফার্ম) সাথে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার ফলে আইনি সুরক্ষা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদেশে নিরাপদ কর্মসংস্থানের আশায় যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা, বিশেষ করে নারী গৃহকর্মীরা, সংগঠিত মানব পাচার ও প্রতারক চক্রের চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। টিস্যু কোম্পানির মতো ছদ্মবেশী প্রাতিষ্ঠানিক মোড়কে পরিচালিত এই চক্রগুলো কেবল বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনছে না, বরং দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ও জাতীয় রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই সংকট নিরসনে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল অভিবাসন কাঠামো নিশ্চিত করা, মাঠপর্যায়ে সক্রিয় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদেশে কূটনৈতিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং ভুক্তভোগী কর্মীদের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026