1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রেল কারখানায় নিম্নমানের কাজ দেখে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ককে তিরস্কার আগামী মাসে ঢাকায় ভাষা ও কর্মদক্ষতার প্রশিক্ষণ দেবে ইতালি দূতাবাস প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ বছর শেষে মূল্যস্ফীতি উঠবে ১০.৯ শতাংশে: আইএমএফ শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে তুলতে শিক্ষকদের এআই জানা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ-কিরগিজস্তান অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার ভারতের বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরং শক্তি-২৬’-এ প্রথমবার অংশ নিল বাংলাদেশ নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনি বিতর্ক নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা সরকারের

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ালেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি পণ্য ও সেবার উচ্চমূল্যের চাপও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা চলাকালে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। গত এপ্রিলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল আইএমএফ। নতুন পূর্বাভাসে তা ১ দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস এপ্রিলে ৬ শতাংশ থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস শূন্য দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ পূর্বাভাস বাড়লেও চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির সম্প্রসারণের গতি গত বছরের তুলনায় কম থাকবে।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ সিলভানা তেনরেইরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো বিভিন্ন ধাক্কা সামলে টিকে আছে। তবে সেই সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে। অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলো এখন নিম্নমুখী।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ বেশি। এতে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে আগে দক্ষতা ও ব্যয় সাশ্রয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। এখন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা মূল্যস্ফীতির চাপ আবার বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থব্যবস্থা ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য দুর্বল হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর ও নিম্ন আয়ের দেশগুলো।

আইএমএফের পূর্বাভাসে বিশ্ব অর্থনীতির এই বিভক্ত চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। ইরান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবের মুখে থাকা মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ২০২৬ সালে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি সৌদি আরব। দেশটির অর্থনীতি চলতি বছর ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। তবে যুদ্ধ শেষ হলে অঞ্চলটির অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। যদিও যুদ্ধের অবসান কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

অন্যদিকে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের প্রসারসহ বিভিন্ন কারণে উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক শক্তিশালী থাকবে। ২০২৬ সালে এসব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। এআই সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো আরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। এর প্রধান কারণ দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা।

এদিকে ২০২৬ সালে বিশ্বে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় ধরনের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারগুলোকে সাময়িক ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের বাড়তি দামের চাপ কমাতে সহায়তা দেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি বা নির্বিচার হওয়া উচিত নয় বলে মনে করে সংস্থাটি।

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় ধরনের অর্থনীতিতে সরকারি ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইএমএফ। তবে জ্বালানিসংকটে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026