ক্রিকেটের ইতিহাসে গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের কাঁপিয়ে দেওয়ার গল্প নতুন নয়। একসময় পাকিস্তানের শোয়েব আখতার আর অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লির মতো ফাস্ট বোলারদের বলের গতি ছিল মাঠের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করে ইতিহাস গড়েছিলেন শোয়েব। দুই বছর পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬০.৮ কিলোমিটার গতির বল ছুড়ে সেই গতির রাজ্যে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন ব্রেট লি-ও। ব্যাটসম্যানের বুক কাঁপিয়ে দেওয়া সেই আগুনে গতির দিনগুলো কি তবে ধীরে ধীরে অতীত হয়ে যাচ্ছে?
আধুনিক ক্রিকেটে কি হারিয়ে যাচ্ছে গতির ঝড়? ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের অর্থ আর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের চিন্তায় পেসাররা নিজেদের গতি কমিয়ে আনছেন কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফাস্ট বোলার ব্রেট লি। তার মতে, ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে নিয়মিত বল করতে পারেন, এমন বোলারের সংখ্যা এখন কমে আসছে। তরুণ পেসারদের মধ্যে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির মাইলফলক ছোঁয়ার তাড়নাও দেখতে চান তিনি।
উইজডেনের ‘স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ অনুষ্ঠানে লি বলেছেন, এখন তরুণ পেসারদের মধ্যে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির সীমা ছোঁয়ার চেষ্টা দেখতে চান তিনি। তার কথায়, ‘আমি চাই বোলাররা ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির সীমাকে চ্যালেঞ্জ করুক। কিন্তু এখন তেমনটা দেখছি না। তরুণ ফাস্ট বোলারদের দৌড়ে এসে প্রচণ্ড গতিতে আগুনে সব বল করতে দেখতে চাই আমি।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম বোলারদের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় নাম শোয়েব আখতার ও ব্রেট লি। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন শোয়েব। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লির বলের গতি উঠেছিল ঘণ্টায় ১৬০.৮ কিলোমিটারে। তাদের পর খুব কম বোলারই ১৬০ কিলোমিটারের মাইলফলক ছুঁতে পেরেছেন। একই সঙ্গে আধুনিক ক্রিকেটে নিয়মিত ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে পারেন, এমন পেসারের সংখ্যাও হাতে গোনা।
লি মনে করেন, এর পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তার ও আর্থিক লাভের হিসাব ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন টি-টুয়েন্টি লিগে খেলে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের সুযোগ এখন পেসারদের সামনে। কিন্তু একাধিক লিগে খেলতে হলে ফিটনেস ধরে রাখাও জরুরি। তাই বোলাররা নিজেদের শরীরের ওপর চাপ কমাতে গতির চেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই পেসার।
‘বোলাররা কি এখন দীর্ঘ মেয়াদে খেলার কথা ভাবছেন, ক্যারিয়ার কত দিন টিকবে, সেটা নিয়ে চিন্তা করছেন? তারা কি ভাবছেন, বিশ্বের সাত-আটটি আলাদা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলার সুযোগ পাবেন, সেখান থেকে মোটা অঙ্কের অর্থও আয় করবেন? এভাবে হয়তো ১৫-২০ বছর, কিংবা অন্তত ১০ বছর খেলতে পারবেন এবং বাকি জীবনের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন?’-প্রশ্ন লির।
এরপর নিজের উদ্বেগের কারণটিও ব্যাখ্যা করে লি বলেন, ‘এভাবে খেলতে হলে আপনাকে ক্রিকেট মাঠে টিকে থাকতে হবে। আর মাঠে টিকে থাকতে গেলে হয়তো ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার বিষয়টি তাদের আর রোমাঞ্চিত করে না। হয়তো তারা ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতির মাঝামাঝি একটা নিরাপদ জায়গায় থাকতে চায়। এতে শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে।’
এরপর লি বলেছেন, ‘আমার কাছে এটা উদ্বেগের বিষয়। কারণ, আপনি তো দেখতে চান বোলাররা দৌড়ে এসে দ্রুতগতিতে বল করছে।’