1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আগামী ‘৫ বছরের মধ্যে’ মহাকাশ যুদ্ধে জড়াতে পারে বিশ্ব জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর মূল শক্তি জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-পাকিস্তান সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল মাঠে ট্রাক ঢুকে শিশুসহ নিহত ২, চালক পুলিশ হেফাজতে এক পোর্টালে সব ধরনের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর কথা ভাবছে সরকার ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে পরিবর্তন সেনাবাহিনীর সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ‘৫ বছরের মধ্যে’ মহাকাশ যুদ্ধে জড়াতে পারে বিশ্ব

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মহাশূন্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই আশঙ্কার মুখে বেসামরিক বিভিন্ন কোম্পানিও এখন নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রক্ষা ও প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

মহাকাশের আবর্জনা পরিষ্কার করার উদ্দেশে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ কোম্পানি 'অ্যাস্ট্রোস্কেল' এখন শ্রেণিবদ্ধ বা গোপনীয় সামরিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সম্ভাব্য শত্রুভাবাপন্ন মহাকাশযান পর্যবেক্ষণ বা প্রতিহত করতে তাদের প্রযুক্তি রূপান্তর করা হচ্ছে। একইভাবে মহাকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী কোম্পানি 'অরবিট ফ্যাব'-ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে 'মহাকাশে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা' বাড়াতে কাজ করছে।

গত মাসে মার্কিন স্পেস ফোর্স প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করেছে। অন্যদিকে চীনা স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে মহাকাশে মারামারি বা ডগফাইটিংয়ের দৃশ্য দেখা গেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে রাশিয়ার কক্ষপথে একটি পারমাণবিক ডিভাইস রয়েছে।

লন্ডনে অ্যাস্ট্রোস্কেলের আয়োজিত এক সভায় কিংস কলেজ লন্ডনের ফ্রিম্যান এয়ার অ্যান্ড স্পেস ইনস্টিটিউটের ড. জুলিয়া বালাম বলেন, মিত্র দেশগুলো প্রতিদিন মহাশূন্যে শত্রুদের দ্বারা 'টার্গেটেড' বা হুমকির শিকার হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, 'কক্ষপথে উপগ্রহের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে এবং সেগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পরিধি যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে, তাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কেবল এই জগতেই নয়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হতে পারে।'

তিনি আরও বলেন, 'কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশ যদি মনে করে যে তারা স্যাটেলাইটগুলোকে অকেজো করে কেবল আমাদের সামরিক অভিযানই নয়, বরং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও ধ্বংস করে দিতে পারে, তবে আমাদের বুঝতে হবে মহাশূন্যকে তারা বলপ্রয়োগের একটি আকর্ষণীয় মাধ্যম হিসেবে দেখছে এবং আমাদেরও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।'

বর্তমান আধুনিক জীবন অনেকাংশেই স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। যোগাযোগ বা জিপিএস ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলে পশ্চিমা বিশ্বে তথ্য ব্ল্যাকআউট ও আর্থিক খাতের পতনসহ তাৎক্ষণিক ও বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থা অন্ধ হয়ে যাবে এবং ইন্টারনেট, টেলিভিশন ও আবহাওয়া পূর্বাভাসের মতো জরুরি সেবাগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে আধুনিক জীবন ১৯ শতকের যুগে ফিরে যাবে।

২০২২ সালে রাশিয়া 'কসমস ২৫৫৩' নামের একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে, যা মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে পারমাণবিক ডিভাইসের অংশ বহন করতে পারে। মহাকাশে পরমাণু অস্ত্র বিস্ফোরিত হলে তা বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা ও উচ্চ শক্তির কণা ছড়াবে, যা পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা বিপুল পরিমাণ স্যাটেলাইট চিরতরে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং কক্ষপথগুলোকে ব্যবহারের অযোগ্য করে তুলবে।

২০২৫ সালে রাশিয়া আরও কসমস মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করে, যা সন্দেহজনক ও সমলয় কসরত চালিয়ে 'অবজেক্ট এফ' মুক্ত করেছে। এছাড়া রাশিয়ার লুচ/অলিম্প গোয়েন্দা স্যাটেলাইটগুলোকে ইউরোপীয় মহাকাশযানগুলোর পিছু নিতে দেখা গেছে। এই সপ্তাহেও একটি রুশ সামরিক স্যাটেলাইট ইউক্রেনকে সহায়তা করা একটি আর্থ-অবজারভেশন স্যাটেলাইটের খুব কাছাকাছি চলে আসে।

এদিকে চীনের 'শেনলং' মহাকাশযানকে কক্ষপথে বস্তু ধরে ফেলার মহড়া দিতে দেখা গেছে। চীনা স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে নিজেদের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ এবং একে অপরের খুব কাছাকাছি (কয়েক ফুট দূরত্বের মধ্যে) এসে অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। অ্যাস্ট্রোস্কেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিক শেইভ জানান, ২০১৩ সালে কক্ষপথের সার্ভিসিংয়ের জন্য কোম্পানিটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন তাদের কোনো সামরিক উদ্দেশ্য ছিল না। তবে ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত প্রতিরক্ষা পর্যালোচনায় (এসডিআর) মহাকাশে যুদ্ধের আশঙ্কার কথা বলা পর তারা দিক পরিবর্তন করেন। তিনি বলেন, 'গত ২০-৩০ বছর ধরে আমরা স্যাটেলাইট মহাশূন্যে পাঠাতাম এবং ধরে নিতাম যে কেউ তাতে আক্রমণ করবে না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে।'

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনের স্যাটেলাইট রক্ষায় তাদের প্রথম মহাকাশ স্কোয়াড্রন ঘোষণা করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেছেন, মহাকাশে হুমকি দিন দিন দ্রুত বাড়ছে এবং প্রায়ই তা পৃথিবীর ভূরাজনীতিরই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে।

বিশ্বব্যাপী দেশগুলো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস, লেজার, অপটিক্যাল সেন্সর অন্ধ করার যন্ত্র এবং স্যাটেলাইট ধরে কক্ষপথ থেকে টেনে নামানোর মতো আরও জটিল মহাকাশ অস্ত্র তৈরি করছে। অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইলের পরীক্ষাও চালানো হয়েছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সিও তাদের প্রকল্পগুলোকে সামরিক ও নিরাপত্তা উপাদানযুক্ত ডুয়াল-ইউজ বা দ্বৈত ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে শুরু করেছে।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026