1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আগামী ‘৫ বছরের মধ্যে’ মহাকাশ যুদ্ধে জড়াতে পারে বিশ্ব জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর মূল শক্তি জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-পাকিস্তান সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল মাঠে ট্রাক ঢুকে শিশুসহ নিহত ২, চালক পুলিশ হেফাজতে এক পোর্টালে সব ধরনের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর কথা ভাবছে সরকার ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে পরিবর্তন সেনাবাহিনীর সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীর মূল শক্তি জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

সেনাবাহিনীর মূল শক্তি শুধু অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম কিংবা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, শৃঙ্খলা, পেশাগত দক্ষতা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, নৈতিকতা, সঠিক প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থার ওপরই একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর আসল ভিত্তি গড়ে ওঠে। রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পতাকা বা ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার বহুমুখী উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে সরকার। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সেনাসদস্যরা দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে এই বাহিনীর জন্ম ও বিকাশ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার মুখে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনাসদস্যরাই প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। স্বাধীনতার সেই রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান বাহিনীকে যেকোনো মূল্যে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের প্রচলিত ধরন ও সামরিক কৌশলে প্রতিনিয়ত রূপবদল ঘটছে। এখন স্থল, আকাশ ও সমুদ্রের পাশাপাশি সাইবার জগৎ, মহাকাশ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিও ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা স্বাবলম্বী করতে দেশীয় উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আধুনিক অস্ত্রের জোগান নিশ্চিত করতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে আধুনিক প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না। তাই কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয় ঘটাতে হবে।

যেকোনো সংকট মোকাবিলায় তিন বাহিনীর সমন্বয় জোরদারের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে যেকোনো জাতীয় প্রয়োজনে দ্রুত দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন। একই সঙ্গে জাতীয় দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন তিনি।

বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণার্থে গৃহীত বিভিন্ন সরকারি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আবাসন, চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে জাতীয় পে স্কেলে সেনাসদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা কার্যকরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাভার সেনানিবাসের ৯ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সাতটি ইউনিটের অধিনায়কদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন। স্বীকৃতি পাওয়া ইউনিটগুলো হলো—৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট।

প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতির সম্মান ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় পতাকা কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক স্মারক নয়, বরং তা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের গৌরবময় আত্মত্যাগ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ প্রতীক।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য এবং সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026