1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অর্থে কি হারাচ্ছে ফাস্ট বোলিংয়ের আগুন? উদ্বিগ্ন ব্রেট লি হামের চিকিৎসায় ঘাটতি না রাখতে নির্দেশনা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর অঙ্গীকার: তারেক রহমান আগামী ‘৫ বছরের মধ্যে’ মহাকাশ যুদ্ধে জড়াতে পারে বিশ্ব জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর মূল শক্তি জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-পাকিস্তান সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল মাঠে ট্রাক ঢুকে শিশুসহ নিহত ২, চালক পুলিশ হেফাজতে এক পোর্টালে সব ধরনের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর কথা ভাবছে সরকার

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর অঙ্গীকার: তারেক রহমান

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

সেনাবাহিনীর সাতটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা: জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাকে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার, ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।’

পেশাগত সাফল্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গলকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়।

ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জনকারী ইউনিটগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মান শুধু একটি পতাকা নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোল্লা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। পরে প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই সেনাবাহিনীর জন্ম

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বর হামলা শুরু করলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রেজিমেন্টে ফিরে বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সংগঠিত করেন।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ওই নিবন্ধে জিয়াউর রহমান বর্ণনা করেছেন, কীভাবে তিনি ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের ডেকে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে তিনি এ নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের এসব লেখা ১৯৭২ সালে দৈনিক বাংলা, ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রা এবং ১৯৮০ সালে দৈনিক দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকেরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সেনাবাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক ও গৌরবের অধ্যায়। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সশস্ত্র বাহিনী গড়ার লক্ষ্য

একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ, জনগণের আস্থা এবং সর্বোপরি কমান্ড কাঠামোর মধ্যে। সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক করে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন- এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশে উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী যাতে প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সেনাসদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে তিনি বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি জানান, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026