1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি নিরাপত্তা বিশ্লেষকের

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ৪৬ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর বৈশ্বিক কৌশলগত অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক কলিন ক্লার্ক। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘দ্য সুফান সেন্টারের’ নির্বাহী পরিচালক কলিন ক্লার্ক এক সাক্ষাৎকারে জানান, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত গভীরতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না। সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক অবস্থান ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছে। কলিন ক্লার্ক উল্লেখ করেন, এই সংঘাতের ফলে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে আরও কঠোর অবস্থানধারী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংলগ্ন তরুণ কর্মকর্তারা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। এর ফলে তেহরানের নীতি আরও আগ্রাসী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এই সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে ওয়াশিংটন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এই বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্রের ঘাটতি বিশ্বের অন্যান্য কৌশলগত অঞ্চলে, বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক বা পূর্ব ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাকে সীমিত করে তুলবে। সামরিক সক্ষমতার এই সাময়িক ঘাটতি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের প্রতিপক্ষদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয়হীনতা ওয়াশিংটনের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। কলিন ক্লার্কের মতে, মধ্যপ্রাচ্য নীতি নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের মতামতকে উপেক্ষা করেছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক পরামর্শ করেনি। কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এই আচরণের পর ওয়াশিংটন যখন হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়, তখন মিত্রদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও অনীহা দেখা দেয়।

কূটনৈতিক ও সামরিক ফ্রন্টে এই সমন্বয়হীনতাকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক বা দুই বছর আগের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও গ্রহণযোগ্যতা এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এই কৌশলগত দুর্বলতা কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতি পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার সৃষ্টি করছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026