1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিটে’ যোগ দিতে তুরস্কে আইনমন্ত্রী ১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের চুক্তি বাংলাদেশ কারও স্বার্থে নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিমান কিনবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন ঢাকা-৫ আসনের জামায়াত এমপি কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ও ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের ইতি চান মন্ত্রী পেলে-মারাদোনার সঙ্গে নিজের তুলনা করলেন রোনালদো লংগদুতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে সরকার কাজ করছে, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য জার্মান রাষ্ট্রদূতের অঙ্গীকার

লালমনিরহাটকে উত্তরাঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ত্রাণমন্ত্রীর

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
লালমনিরহাট: লালমনিরহাট কেবল একটি প্রশাসনিক জেলা নয়, বরং এটি উত্তর জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সম্ভাবনা ও নিরন্তর সংগ্রামের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিস্তা ও ধরলা নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, উর্বর কৃষিজমি এবং সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাটে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে লালমনিরহাট সার্কিট হাউসে ‘হামার লালমনি’ শীর্ষক প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহা. রাশেদুল হক প্রধান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, তিস্তা ও ধরলাসহ অসংখ্য ছোট-বড় নদনদীকে ঘিরে লালমনিরহাটের মানুষের জীবনসংগ্রাম ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয়। প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থান ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে এখানকার মানুষ টিকে রয়েছে। তবে এখন সময় এসেছে এই ভৌগোলিক অবস্থানকে উন্নয়ন ও সম্ভাবনায় রূপান্তর করার।
তিনি উল্লেখ করেন, বুড়িমারী স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সীমান্ত বাণিজ্যের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কার্যকর পরিকল্পনা ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে লালমনিরহাট উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সরাসরি সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে তিস্তা অববাহিকার উর্বর পলিমাটিতে উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক ভারী ও মাঝারি শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তবাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে লালমনিরহাটের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে কারিগরি ও আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে তারা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
জনপদের লোকঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনযাপন, ভাওয়াইয়াসহ সমৃদ্ধ লোকসংগীত, গ্রামীণ লোকঐতিহ্য এবং ঐতিহ্যবাহী উৎসবসমূহ আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ। টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের শিকড়, ঐতিহ্য ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সংরক্ষণ করতে হবে। অতীত ঐতিহ্য এবং আধুনিক সম্ভাবনার সুসমন্বয় ঘটিয়ে লালমনিরহাটকে একটি আধুনিক, অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ এবং শান্তির লীলাভূমি হিসেবে রূপান্তর করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসক মোহা. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা লালমনিরহাটের সামগ্রিক উন্নয়ন রূপরেখা, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন, যোগাযোগ অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতে বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। উপস্থিত অংশীজনরা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে লালমনিরহাট জেলা উত্তর জনপদের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026